Muktokolom

কলমের স্পর্শে শুদ্ধ হোক পৃথিবী

ব্লগিং মানেই কি ধর্ম বিরোধিতা?

 

ব্লগিং মানেই কি ধর্ম বিরোধিতা!

 

ধর্ম নিয়ে আলোচনা এখন এ সমাজের অন্যতম এক ধর্ম। অথচ ধর্ম নিয়ে অযৌক্তিক, অনাকাংখিত, আজগুবি কথা, বাণী দিয়ে কতজনে কত অনাচার অধর্ম করে ফেলেন সেদিকে কারুরই নেই কোন খেয়াল। ধর্ম হলো বিশ্বাস, যারা ধর্মকে পালন করেন তারা তার বিশ্বাসকে সম্মান করেন। ধর্মের প্রতি মানুষের এই সম্মান প্রদর্শনকে কটাক্ষ করা, অপমানিত করা, অবহেলা করার অধিকার কারো নেই। আপনার ধর্মে আস্থা না থাকলে আপনি মুড়ি বেঁচুন গিয়ে অন্যের ধর্মকে আঘাত করা, কটু কথা লিখার দায়িত্ব আপনাকে তো কেউ দেয়নি, তবে কেন আপনি অন্যের ধর্মকর্মে অযাচিত অপাংক্তেয় প্রবেশ করেন।

আরে বাবা আপনি নাস্তিক হলে থাকুন না আপনার নাস্তিকতা নিয়ে, আপনার অবিশ্বাস নিয়ে। আপনাকে কে অধিকার দিল অন্যকে নাস্তিক বানানোর।
ওইসব লিখলে কি নামীদামী ব্লগার হওয়া যায়।
অস্বীকার করাটা কি আপনার ফ্যাশন।
নিজেরে অনেক বড় বুদ্ধিজীবী প্রমান করার জন্য কি নাস্তিকতাই আপনার সবচেয়ে সহজগম্য বিষয়। নাকি ওসব লিখে নিজেকে উন্নত দেশে আশ্রয়প্রার্থনার জন্য যোগ্য করে তোলেন। নাস্তিক ব্লগার হলে ইউরোপের দেশগুলোতে গিয়ে কি খুব সহজে গিয়ে লাল নীল পানি খাবার, মৌজ মাস্তি করার ভিসা মেলে।


আমার বিশ্বাস এবং আপনাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ আপনি যতবড় নাস্তিক হোন না কেন যখন আচ্ছামতে বিপদে পড়েন, যখন চোখের ভিতর লালকালো মরীচিমায়া জ্বলজ্বল করে, যখন পশ্চাৎ দেশের চুলকানি পর্যন্ত হাত না পৌঁছানোয় চুলকোতে পারেন না, যখন আপনার ( — অমুদ্রনযোগ্য) কান্ধে উঠে তখন ঠিকই মনে মনে ইশ্বর, ভগমান, রাম, গৌতম, জীশাস, আল্লাহ যার যেঘরে জন্ম তা যপতে থাকেন।

আপনাদের মতো মানুষদের জন্য প্রার্থনা করি, আল্লাহতালা যেন আপনাদের মতো আবাল নাদানদের উপর করুণা বর্ষণ করেন। তিনি যেন আপনাদের এই অজ্ঞানতাকে মাফ করেন। আমিন।

আমার লিখা উপন্যাস “দুর্বিপাকের ঘূর্ণি” তে ধর্ম নিয়ে আলোচনার কিছু অংশ নীচে দিলাম। মন চাইলে পড়ে দেখতে পারেন। আরেকটু বেশী মন চাইলে রকমারি.কম থেকে কিনে নিয়েও পড়তে পারেন –
ইসলাম চাচা বললেন, এখন বিশ্বব্যাপী ইসলামপন্থি রাজনীতি যারা করে, তারা ইসলাম ধর্মের একটি ব্যাখ্যা হাজির করে এবং সেটাকেই রাজনৈতিক আদর্শে পরিণত করে। এদেশের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ঘটনা। ধর্মের আচার-অনুষ্ঠানে, বিশ্বাসের অনেক জায়গাতে ইসলাম ধর্মের ভেতরেও রয়েছে বৈচিত্র্য ও ভিন্নতা। এই ভিন্নতা শুধু শিয়া-সুন্নির পার্থক্যেই নয়, বিভিন্ন ধরনের মাজহাব এবং মাসলাক, হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা, ইসলামি আইনের বিভিন্ন ব্যাখ্যা এই পার্থক্য ও বৈচিত্র্যের জন্য দায়ী। কোন বিষয়ে সংশয় অথবা সন্দেহ থাকলে ইসলামে এ ধরনের ব্যাখ্যা নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কের নজির কিন্তু আছে। কিন্তু উগ্র ইসলামপন্থিরা ধর্মের সে অংশকেই তাদের প্রচারণায় তুলে ধরে, যেগুলোকে তারা তাদের রাজনৈতিক আদর্শ এবং লক্ষ্য প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যবহার করতে পারবে।
আছরের ওয়াক্তের আর বেশি সময় বাকি নেই বলেই ইমাম সাহেব উঠে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন,তবে যাবার আগে একটা কথাই বলব, মুসলিম জাতিকে প্রকৃতভাবে আগে নিজেকে জানতে হবে। যারা রাজনীতিক দীক্ষা গুরু হিসেবে আবুল আলা মওদুদী, হাসান আল বান্না, ইবনে তাইমিয়া, আবদুল ওয়াহাব, সাইয়েদ কুতুব, আবদুল্লাহ ইউসুফ আজজম কিংবা রুহুল্লাহ খোমেনির ব্যাখ্যাকেই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন, হতে পারে তাঁদের কারো কারো মতে ধর্মের চর্চা ও প্রচার মানেই শক্তির প্রয়োগ এবং এই বিষয়ের বিতর্কগুলোকে তারা যৌক্তিক কোন ব্যাখ্যা গ্রহন ব্যতিরেকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে থামিয়ে দিতে চায়। আমি এটা কখনো বলব না, ধর্মীয় গ্রন্থগুলো থেকে সহিংসতার বা উগ্রপন্থার ধারণা গ্রহণ করা অসম্ভব। কেবল যে ইসলামের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য, সেটা সঠিক নয়। খ্রিষ্টধর্ম বা ইহুদি ধর্মগ্রন্থে একধরনের সহিংসতার ধারণা নেওয়া অসম্ভব নয়। কিন্তু তার পাশাপাশি সবধর্মের মধ্যেও আবার সহনশীলতা, সহানুভূতি, সমবেদনার কথা বলা আছে। ফলে ধর্মের একক কোন ব্যাখ্যাকেই যারা চূড়ান্ত বলে বিবেচনা করে, তারা ভুল করে, মস্তবড় ভুল।

নবাবের মতো কোমলমতি ছেলেরা কি এভাবেই প্রতিনিয়ত ঝরে পড়বে?

**………………………………….

আপেক্ষিক বঞ্চনা হচ্ছে যখন একজন নিজের জীবনে বা তাঁর চারপাশের সমাজে, এমনকি বৈশ্বিকভাবে যে সমাজের অংশ বলে নিজেকে মনে করে, তার প্রতি অসম আচরণ দেখতে পায়। সে যখন অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে আর দেখতে পায় যে অন্যরা তুলনামূলকভাবে ভালো আছে, তখন তার ভেতরে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সমাজে বিরাজমান কতিপয় অবস্থা ও প্রবণতাকে প্রধান বলে মনে করে- তাঁদের মতে এইভালো থাকাটা হতে পারে বৈষয়িক, হতে পারে সাংস্কৃতিক, হতে পারে সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নে।
সম্রাট প্রশ্ন করল, তাহলে নবাবের মতো কোমলমতি ছেলেরা কি এভাবেই প্রতিনিয়ত ঝরে পড়বে?রাকিব সাহেব বললেন, যে কোনো যুক্তি সম্পন্ন মানুষই জানেন যে পার্থক্য থাকাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই পার্থক্যকে যখন অন্যায় ও অন্যায্য বলে মনে হয়, তখনই এই পার্থক্যের বিষয়টি মনোজগতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এই আপেক্ষিক বঞ্চনার বোধ তৈরি হয় যখন একজন ব্যক্তি দেখেন যে অতীতে যেসব অধিকার তিনি ভোগ করে এসেছেন তা সীমিত হচ্ছে বা অন্যরা এখন তার চেয়ে অনেক বেশি অধিকার ভোগ করছেন।কিন্তু মনে রাখা দরকার, যেকোনো সমাজে যখন একজন ব্যক্তি, যদি নিজেও এই সুবিধাভোগী হন, কিন্তু উপলব্ধি করতে পারেন যেসমাজের একাংশের ওপরে অন্যায্য প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই তার এই সুবিধা বহাল থাকছে, তখন তার মধ্যেও আপেক্ষিক বঞ্চনার ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সম্রাট বলল, স্যার, ইদানিং তো প্রায় পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, এ সহিংসতার সাথে জড়িত তরুণদের একটা বড় অংশ শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে । তারা তো নবাবের মতো কখনও বঞ্চিত হয়নি অথবা অভাবের মুখোমুখি তাদের কে হতে হয়নি। তারা কোন দুঃখে এই পথ বেছে নিচ্ছে?
ইমাম সাহেব ধমক দিয়ে উঠলেন, বলদের মতো কথা বলিস ন সম্রাট। কেবল যারা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন ‘বঞ্চনা’কে, তাদের অবস্থান থেকে দেখলে এটা বোঝা যাবে না। কেউ তার চারপাশে যা ঘটছে, সেটাকে অন্যায্য মনে করছে কিনা, সেটা প্রথমে ভাবতে হবে। ইউরোপ, আমেরিকার মুসলমানদের কি মনে হয় তোর? ওরা কি দরিদ্র? নাকি তোর আমার মতো হাভাইত্ত্যা? একবেলা ভাত পাবে এই আশায় কি তারা সহিংসতা করছে? ভুলেও এটা ভাবিস না। বরং এই সহিংসতাকে চলমান রাখতে তারা মিলিয়ন বিলিয়ন টাকা ঢালছে। মধ্যপ্রাচ্যে বা অন্য যেখানেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন হয়, তা তাদের নিজের উপর হচ্ছে বলে ধরে নেয়। বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের মধ্যেই এ ধারণা ব্যাপক।

 

** দুর্বিপাকের ঘূর্ণি – থেকে নেয়া।

শেয়ার করুন
আপডেট : নভেম্বর ১, ২০১৭ — ৩:০৫ পূর্বাহ্ন

৩ টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন
  1. আপনার লেখাটি কি http://www.nobobarta.com এ প্রকাশ করা যাবে?

  2. খুবই জরুরী একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন। ভালো লাগলো।

  3. কৃতজ্ঞতা ও আনন্দের সাথেই প্রকাশ করা যাবে @ রুদ্র আমিন
    ওমর @ ধন্যবাদ

মন্তব্য করুন

Muktokolom © 2017 রুদ্র আমিন