Muktokolom

কলমের স্পর্শে শুদ্ধ হোক পৃথিবী

গোয়েবলস প্রোপাগান্ডা – কি ভয়াবহ, কি মারাত্মক!!

 

আগামীর পৃথিবী হোক স্বপ্নের, সুন্দরের ; কবি আর লেখকদের
—————————
মেহেদী হাসান তামিম

কোন দেশে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকেরা যখন অন্য যেকোন কিছুর প্রভাবে হোক, ভয়ে হোক, চাটুকারিতা বা তোষামোদ করেই হোক – যখন কোন বাস্তবতা, সত্যকথন কলমের ডগায় আনতে পারেন না, লিখতে পারেন না, বলতে পারেন না, আঁকতে পারেন না – সে দেশ নাকি বিশাল একটি ভয়াবহতার মুখোমুখি দাঁড়ায়। যখন একটি দেশের সিভিল সমাজ জেগে থেকে ঘুমিয়ে থাকার ভাণ করেন, সে দেশের বিপদ তত ছোঁয়াচ কাছের দূরত্বেই।

যদিও বাংলাদেশে ২৫ মার্চ ১৯৭১ ভয়াল কালোরত্রিতে এ দেশের সম্পদ ও সম্পত্তি এবং একই সাথে প্রকৃত সিভিল সমাজকে নির্মম ভাবে হত্যা করার পর আর কোন সিভিল সমাজ গড়ে উঠেছে কিনা এনিয়ে আমার চরম সন্দেহ আছে। আমরা কথা বলা, পাকনা যত লোক দেখি আসলে সকলে তারা ভাঁড়। বড়জোর তাদেরকে একচোখা, একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট বুদ্ধিজীবী বলা যেতে পারে, তাদেরকে সিভিল সমাজের অংশ কোনভাবেই বলা যায়না, অন্তত আমি স্বীকার করিনা। আর আমার স্বীকার অস্বীকারে যদি কারো কিছু যায় না আসে, তাদের এরকম ভাবনায় আমারো কিচ্ছু যায় আসেনা।

সমাজ সংসার থেকে শুরু করে ধর্মদর্শন সবখানেই সত্যের জয়গান এবং পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক সময়ের শিক্ষা হলো -” মিথ্যা বলা মহাপাপ।” তার মানে আবার নোয়াখাইলাদের (ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেন) মতো কেউ ফাঁক বের করে যদি বলেন, মিথ্যা বলা মহাপাপ কিন্তু সত্যের সাথে কিছুটা রং মিশিয়ে বলা হলে তা পাপ নয়, সেটা ডাহা ভুল আর মহাপাপ।

“গোয়েবলস প্রোপাগান্ডা ” জানতাম, কোন মিথ্যাকে বারবার বারবার করে বলো তবে সেটা একসময় সত্য হয়ে যাবে। এতদিন গোয়েবলস তত্ত্বের ওই একটা লাইন জেনেই সবকিছু বিশ্লেষণ করতাম। কিন্তু যখন তত্ত্বটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও তার যুক্তিগুলো সম্পর্কে জানলাম বিশাল এক ভয়াবহ ব্যাপার আবিস্কার করলাম। গোয়েবলসের প্রভাবে যখন দু-একটা মিথ্যা সমাজে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, তখন পুরো সমাজ থেকে একে একে সকল সত্যকে মিথ্যার দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে হয়। ব্যাপারটা কি ভয়ানক, কি মারাত্মক চিন্তা করা যায়!

মিথ্যার বিপরীতে সত্যের জয়গানই কবি লেখকদের মূল লক্ষ্য। তাদের ভাব, ভাষা ও ছন্দের যে নান্দনিকতা, তা হতে হবে সত্য, সুন্দর ও সভ্য জগৎ বিনির্মাণের মুল হাতিয়ার।

মহান আল্লাহ তায়ালা রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআন শরিফে ‘কবি লেখকগণ’ (আশশুয়ারা) নামে একটি সূরা নাজিল করেছেন ।

সূরাটির ২২৪ থেকে ২২৭ নং আয়াত –
আল্লাহ কবি লেখকদের বৈশিষ্ট্য ও দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। সেই সঙ্গে তাদের লিখা যে নির্যাতন ও জুলুমের বিপরীতে সর্বাত্মক আন্দোলনের অংশ হতে পারে- সে কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
‘(২২৪) এবং কবি লেখকদের অনুসরণ করে তারা, যারা বিভ্রান্ত। (২২৫) (হে রাসূল) আপনি কি দেখেন না, ওরা উদ্বাস্তু হয়ে উপত্যকায় উপত্যকায় ঘুরে বেড়ায়? (২২৬) এবং তারা যা করে না, তা বলে। (২২৭) কিন্তু তারা ছাড়া, যারা ইমান এনেছে, সৎকর্ম করে এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করে। আর তারা অত্যাচারিত হওয়ার পরে প্রতিশোধ গ্রহণ করে। অত্যাচারীরা শিগগিরই জানতে পারবে, তাদের গন্তব্যস্থল কী রূপ?’ (সূরা আশশুয়ারা, আয়াত ২২৪-২৭)।

এক শ্রেণির অল্প শিক্ষিত বুদ্ধিজিবি, আলেম ও জনসাধারণ আয়াতের প্রথম অংশ পড়ে এতটাই আহ্লাদিত, পুলকিত হয়ে পড়েন যে, তারা আয়াতের শেষ পর্যন্ত পড়ার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। তারা হাতে তালি দিয়ে বলে ওঠেন, দেখলে, আল্লাহ কবিদের কেমন অপছন্দ করেন? তিনি তাদেরকে বিভ্রান্ত উপত্যকার অধিবাসী বলে তিরস্কার করেছেন এবং তাদের অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। এসব ব্যক্তি যদি আরও একটু ধৈর্য ধরে আয়াতের শেষ পর্যন্ত পড়তেন তবে তারা দেখতে পেতেন –
‘তবে তারা ছাড়া’ বলে আয়াতের শেষাংশে আল্লাহ আরেক দল কবির উল্লেখ করেছেন, যারা আল্লাহর অপছন্দনীয় তো নয়ই, বরং আল্লাহর বিশেষ কৃপাধন্য।

শেয়ার করুন
আপডেট : নভেম্বর ৩, ২০১৭ — ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

মন্তব্য করুন

Muktokolom © 2017 রুদ্র আমিন